বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১১:২৯ অপরাহ্ন১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১১ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

সংবাদ শিরোনাম :
দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যানের সহধর্মিনী রুহানী আমরীন টুম্পার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচন ।। নৌকা প্রার্থী মোহাম্মদ আলী বিজয়ী, জামানত হারালেন বিএনপি দাউদকান্দিতে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচনে নৌকার গণজোয়ার সৃস্টি হয়েছে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে ——–মেয়র নাইম ইউসুফ সেইন বিএনপির সভায় ভোট চাইলেন আওয়ামীলীগ প্রার্থী দাউদকান্দিকে মডেল উপজেলায় রূপান্তর করতে নৌকাকে বিজয়ী করুন। —— মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী দাউদকান্দিতে ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচির উদ্বোধন দাউদকান্দির সুন্দুলপুর ইউপি চেয়ারম্যানের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ৭৪তম জন্মদিন উদযাপন জাতীয় শোক দিবসে মেঘনা যুবলীগের আলোচনা সভা।
মুজিববর্ষে বিশ্বজয়

মুজিববর্ষে বিশ্বজয়

POTCHEFSTROOM, SOUTH AFRICA - FEBRUARY 09: Mohammad Shoriful Islam of Bangladesh celebrates running out Ravi Bishnoi of India during the ICC U19 Cricket World Cup Super League Final match between India and Bangladesh at JB Marks Oval on February 09, 2020 in Potchefstroom, South Africa. (Photo by Matthew Lewis-ICC/ICC via Getty Images)

হালিম পারভেজঃ মুজিববর্ষে ইতিহাস গড়ল টাইগার যুবারা। নাটকীয় ফাইনালে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ফাইনালে ভারতের দেওয়া ১৭৮ রানের টার্গেটে ৪১ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলেছে ১৬৩ রান। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের লক্ষ্য নেমে আসে ১৭০ রানে। সেই লক্ষ্য সহজেই ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এতে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে প্রথম শিরোপা জিতল বাংলাদেশ।

দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে মহাগুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। শুরুতে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশের যুবাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপে পড়ে যায় ভারতীয় যুবারা। তানজিম হাসান সাকিব আর শরিফুল ইসলাম মিলে প্রথম ৬ ওভারে খরচ করেছেন মাত্র ৮ রান। এরপর ৭ম ওভারে এসেই মেডেন ওভারের পাশাপাশি ১ উইকেট তুলে নেন অভিষেক। টানা ডট বলের চাপে ফেলে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রথম উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশের যুবারা। ভারতীয় ওপেনার সাক্সেনাকে মাহমুদুল হাসান জয়ের ক্যাচ বানিয়ে উইকেটটি নিয়েছেন অভিষেক দাস।

তবে দ্বিতীয় উইকেটে নামা তিলক বর্মাকে সঙ্গে নিয়ে বড় জুটি গড়ছেন ওপেনার জয়সাওয়াল। অবশেষে দলীয় ১০৩ রানে তিলক ভার্মাকে ফেরান তিলক। ৬৫ বল খেলে ৩ চারে ৩৮ রান তুলেছেন তিলক। ২ উইকেট হারিয়ে ওপেনার জয়সাওয়ালকে সঙ্গ দিতে এসেছিলেন ভারতের দলপতি গার্গ। তবে তাকে বেশিক্ষণ থাকতে দেননি রাকিবুল। সাকিবের ক্যাচ বানিয়ে ৭ রানেই সাজঘরে পাঠিয়েছেন রাকিবুল।

টাইগার যুবাদের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল ভারতীয় ওপেনার জয়সাওয়াল। অবশেষে এই ওপেনারকে ফিরিয়ে টাইগার শিবিরে স্বস্তি দিলেন পেসার শরিফুল। জয়সাওয়ালকে ব্যক্তিগত ৮০ রানে তানজীদের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান শরিফুল। এর পরের বলেই নতুন ব্যাটসম্যান ভীরকে শুন্য রানে ফিরিয়ে উল্লাসে মেতে উঠেন শরিফুল।

দলীয় ১৬৮ রানে শামীমের থেকে বল পেয়ে যখন আকবর আলী উইকেট ভাঙেন তখন ভারতের দুই ব্যাটসম্যান একই প্রান্তে। জুরেলের ডাকে সাড়া দিয়ে রান নিতে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন আনমোলকার। কিন্তু মাঝপথে ফিরে আসেন। ততক্ষণে জুুরেলের ফিরে যাওয়ার উপায় ছিল না। প্রায় একই সঙ্গে দুই ব্যাটসম্যান বোলিং প্রান্তে ব্যাট স্পর্শ করেন। মাত্র কয়েক ইঞ্চি এগিয়ে থেকে বেঁচে যান আনমোলকার। ২২ রানে জুরেল ফেরেন সাজঘরে।

দলীয় স্কোরকার্ডে মাত্র ২ রান যোগ হতেই ভারতীয় শিবিরে আবারো টাইগারদের হানা। এবার ফিরলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান বিশনয়। স্কোরকার্ডে কোন রান যোগ না হতেই আনমোলকার (৩) বোল্ড করে উড়িয়ে দেন অভিষেক। একই ওভারের শেষ বলে কার্তিক তিয়াগি ফেরেন কোন রান না করে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে সুসান্তকে (৩) ফেরান সাকিব। এতে বাংলাদেশের যুবাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৪৭.২ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৭৭ রান করেছে ভারত।

প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার জন্য বাংলাদেশের দরকার ১৭৮ রান। তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেনের উদ্বোধনী জুটিতে শুরুটা দারুণ করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে ১৩ রান সংগ্রহে তানজিদ দুটি চার মারেন। পরের ওভারে একটি বাউন্ডারি মারেন পারভেজ। দুজনের জুটি ৫০ ছুঁতেই ভেঙে গেছে। ২৫ বলে ১৭ রান করে রবি বিশনয়ের বলে কার্তিক ত্যাগীর ক্যাচ হন তানজিদ। নবম ওভারের দ্বিতীয় বলে ছয় মেরে দলীয় স্কোর পঞ্চাশে নেন তিনি। দলীয় ৬২ রানে গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান জয়কে সাজঘরে ফেরান বিষ্ণয়। ফাইনালের মঞ্চে মাত্র ৮ রান করেই ফিরতে হয়েছে তাকে। স্কোরকার্ডে কোন রান যোগ না হতেই টাইগার যুবাদের ডিপেন্ডবল ব্যাটসম্যান তৌহিদ হৃদয়কে বোল্ড করেন বিষ্ণয়। হৃদয় ফেরেন শূন্য রানে।

দলীয় ৬৫ রানে বাংলাদেশ যখন ব্যাকফুটে ঠিক তখনি শাহাদাত হোসেন স্টাম্পিং হন মাত্র ১ রান করে। ব্যাটিং সীমানার বাইরে ছিল তার পা, স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেটকিপার ধ্রুব জুরেল। এরপর ব্যাট তুলে মারছিলেন আকবর ও শামীম। দলীয় ৮৫ রানে মিশরাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে জসওয়ালের তালুবন্দী হন শামীম(৭)।

২৩তম ওভারে সুশান্তের বলে অভিষেক দাসের ক্যাচ মিস করেন রবি বিশনয়। পরের বলে চার মেরেছিলেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান। আরেকবার জীবন পান অভিষেক, এবার ক্যাচ ছাড়েন তিলক ভার্মা। ৩ বলের ব্যবধানে দুইবার জীবন পেয়েও সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি। পরের বলে হুক করতে গিয়ে কার্তিক ত্যাগীর হাতে ধরা পড়েন তিনি। ৭ বলে মাত্র ৫ রান করেন অভিষেক। তার বিদায়ের পর মাঠে নামেন রিটায়ার্ড হার্ট হওয়া পারভেজ হোসেন।

১০২ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর আকবর আলী ও পারভেজ হোসেনের ব্যাটে খেলায় ফিরছিল টাইগাররা। তবে দলীয় ১৪৩ রানে জসওয়ালের বলে আকাশের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার পারভেজ হোসেন। ৭৯ বলে ৭ চারে ৪৭ রান তুলেছেন এই ব্যাটসম্যান।

পারভেজ হোসেন হাফসেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে বিদায় নিলেও আকবর আলী ও রাকিবুল হাসানের ধীর ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রাখেন। অবশেষে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের লক্ষ্য নেমে আসে ১৭০ রানে। সেই লক্ষ্য সহজেই ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এতে বৃষ্টি আইনে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে মুজিববর্ষে বিশ্বকাপ জয় করলো বাংলাদেশের টাইগাররা।

যেকোনো ধরণের ক্রিকেটে এবারই প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো টাইগাররা। এর আগে জাতীয় দল হোক বা বয়সভিক্তিক, এমনকি মেয়েদের ক্রিকেটেও কখনো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে ঘরের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলেছিল তারা।

সেই সঙ্গে ভারতের উপর একটি প্রতিশোধও নিল যুব টাইগাররা। এই ভারতের বিপক্ষেই সর্বশেষ এশিয়া কাপের ফাইনালে ৫ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় দলও এশিয়া কাপের ফাইনাল ও নিদাহাস ট্রফিতে জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও হেরে যায় ভারতের বিপক্ষে। তবে এবার ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ঠিকই ভারতকে বড় মঞ্চে হার উপহার দিল বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
© "আমাদের দাউদকান্দি" কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT