মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

সংবাদ শিরোনাম :
চলে গেলেন দেশের ফুটবলের অন্যতম তারকা বাদল রায় দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যানের সহধর্মিনী রুহানী আমরীন টুম্পার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচন ।। নৌকা প্রার্থী মোহাম্মদ আলী বিজয়ী, জামানত হারালেন বিএনপি দাউদকান্দিতে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচনে নৌকার গণজোয়ার সৃস্টি হয়েছে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে ——–মেয়র নাইম ইউসুফ সেইন বিএনপির সভায় ভোট চাইলেন আওয়ামীলীগ প্রার্থী দাউদকান্দিকে মডেল উপজেলায় রূপান্তর করতে নৌকাকে বিজয়ী করুন। —— মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী দাউদকান্দিতে ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচির উদ্বোধন দাউদকান্দির সুন্দুলপুর ইউপি চেয়ারম্যানের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ৭৪তম জন্মদিন উদযাপন
মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা পেলেন নওগাঁর ১০ বীরাঙ্গনা

মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা পেলেন নওগাঁর ১০ বীরাঙ্গনা

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ অবশেষে মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা পেলেন নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের আতাইকুলা পালপাড়া গ্রামের ১০ বীরাঙ্গনা। মুক্তিযোদ্ধাদের সমান সুযোগ-সুবিধাসহ মর্যাদা পাবেন তারা। মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা পাওয়ার খবরে আনন্দে ভাসছেন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত নারীরা।

সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই ১০ বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা দিয়ে একটি গেজেট প্রকাশ করেছে। তবে এই তালিকায় থাকা দশজনের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪জন চলে গেছেন পরপারে। তারা হচ্ছেন, বানী রানী পাল, ক্ষান্ত রানী পাল, রেনু বালা ও সুষমা সূত্রধর। আর বেঁচে আছেন রাশমনি সূত্রধর, সন্ধ্যা রানী পাল, মায়া রানী সূত্রধর, কালীদাসী পাল, সন্ধ্যা রানী ও গীতা রানী পাল।

নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর তীরে ছায়ায় ঘেরা শান্ত আতাইকুলা পালপাড়া গ্রাম। ১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী স্থানীয় রাজাকার ও আলবদরদের সহযোগীতায় সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের ওপর নির্যাতন চালায়। পাকবাহিনী গণহত্যা, নারী নির্যাতন, অগ্নীসংযোগ ও লুটপাটসহ ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ওই দিন গবীন্দ চরণ পাল, সুরেশ্বর পাল, বিক্ষয় সূত্রধর, নিবারন পালসহ ৫২ জন মুক্তিকামী জনতাকে নির্বিচারে হত্যা করে। এ সময় নারীরা স্বামী সন্তানকে বাঁচানোর জন্য আকুতি জানিয়েও পকিস্তানী বাহিনীর মন গলাতে পারেননি। উল্টো পাক-জান্তারা নারীদের ওপর চালায় পাশবিক নির্যাতন।

বীরাঙ্গনা কালী দাসী পাল (৭৫) বলেন, ‘ওই দিন পকিস্তানী আর্মীরা আমার স্বামীকে ঘরের দরজা ভেঙে ধরে নিয়ে যায়। স্বামীর প্রাণ বাঁচাতে আমিও সেখানে গিয়ে তার প্রাণ ভিক্ষা চাই। কিন্তু তারা কোনও কথা না শুনে আমার চোখের সামনে স্বামীসহ ৫২ জনকে হত্যা করে। পরে আমার ওপরও চালায় নানা ধরণের নির্যাতন।

তিনি আরও বলেন, আমার এক ছেলে আছে। সে দিন মজুরের কাজ করে। আমিও পেটের তাগিদে কখনও ধান কুড়িয়ে, কখনও চাতালে বা অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করে কোনও রকমে বেঁচে আছি। ভেবেছিলাম বেঁচে থাকতে মনে হয় স্বীকৃতি পাবো না। অবশেষে স্বীকৃতি পেয়েছি। আমি অনেক খুশি। সরকারকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।’

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইসরাফিল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার ও বীরাঙ্গনাদের ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক। অবশেষে আমাদের সবার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আতাইকুলা পাল পাড়া গ্রামের এই নারীরা মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা পেয়েছে। এটি আমাদের অনেক বড় একটি সফলতা। আমি সত্যিই আনন্দিত। পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
© "আমাদের দাউদকান্দি" কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT